নাজমুস সাকিব,
ডিজিটাল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ফেসবুক। মতপ্রকাশ, সংবাদ আদান-প্রদান ও সামাজিক সংযোগে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই প্ল্যাটফর্মে বট ও ফেইক একাউন্টের দৌরাত্ম্য উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ভুয়া একাউন্টের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো, বিভ্রান্তি সৃষ্টি, জনমত প্রভাবিত করা ও প্রতারণার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে, যা ব্যক্তি ও সমাজ-উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।
বট একাউন্ট মূলত স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার দ্বারা পরিচালিত হয়। এগুলো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে একই ধরনের পোস্ট, মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানায়। অন্যদিকে, ফেইক একাউন্টে ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে বাস্তব মানুষ কিংবা সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের পক্ষে এদের আলাদা করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে কিছু লক্ষণ লক্ষ্য করলে এসব একাউন্ট চিহ্নিত করা সম্ভব। যেমন-অসম্পূর্ণ প্রোফাইল, অস্বাভাবিক নাম ও ছবি, অল্প সময়ে অতিরিক্ত পোস্ট বা মন্তব্য, একই বক্তব্য বারবার প্রচার, সন্দেহজনক লিংক পাঠানো কিংবা উসকানিমূলক ভাষার ব্যবহার। বিশেষ করে যাচাইহীন তথ্য দ্রুত শেয়ার করার প্রবণতা এসব একাউন্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এ সমস্যা মোকাবিলায় ব্যবহারকারীদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তিগত প্রাইভেসি সেটিং শক্ত করা, অজানা লিংক এড়িয়ে চলা, সন্দেহজনক একাউন্ট রিপোর্ট ও ব্লক করা, তথ্য শেয়ারের আগে উৎস যাচাই করা এবং একাউন্ট সুরক্ষায় টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা জরুরি। পাশাপাশি ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে।
বট ও ফেইক একাউন্টের প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা, তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্যও হুমকি। তাই নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ গড়ে তুলতে রাষ্ট্র, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবহারকারীদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
দায়িত্বশীল ও সচেতন ব্যবহারই পারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ইতিবাচক ও নিরাপদ রাখতে।