পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পাখিমারা খালের ওপর স্থায়ী সেতু না থাকায় প্রায় ৩০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা, নেয়ামতপুর ও এলেমপুর গ্রামের পাঁচ শতাধিক কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। ঝুঁকিপূর্ণ ভাসমান সেতু, নৌকা ও কাদামাটির পথ পেরিয়ে প্রতিদিন কৃষিপণ্য পাখিমারা পাইকারি বাজারে নিতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এ তিন গ্রামে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কলাপাড়া উপজেলার বড় একটি অংশের সবজির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তেও পাঠানো হয়। তবে সেতু না থাকায় পরিবহন খরচ ও দুর্ভোগ দুটোই বাড়ছে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। প্রায় ৩০০ ফুট প্রশস্ত খাল পার হতে কৃষকরা ড্রামের ওপর নির্মিত কাঠের ভাসমান সেতু ব্যবহার করেন। স্থানীয় উদ্যোগে ও এনজিওর সহায়তায় কয়েকবার সেতুটি মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১৬ সালে খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও মাত্র দুই বছরের মধ্যে সেটি নষ্ট হয়ে যায়। এরপর থেকে ভাসমান সেতুই কৃষকদের একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে আশ্বাস পেলেও স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এলজিইডি জানিয়েছে, কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে পাখিমারা খালের ওপর ৪৯০ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডিজাইন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পথে এবং নেভিগেশন ছাড়পত্রও নেওয়া হয়েছে। একনেকের অনুমোদন পেলেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আর আশ্বাস নয়—দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন করে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি এলাকার কৃষি অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।