1. akmnazmuzsakib@gmail.com : Nazmus Sakib : Nazmus Sakib
  2. khairunnahar311984@gmail.com : কলাপাড়া পোস্ট :
  3. necharlenovo@gmail.com : Nechar Uddin : Nechar Uddin
  4. nex@farabiblog.com : Nex2 :
  5. mdabdullahalnoman819@gmail.com : MD. ABDULLAH AL NOMAN : MD. ABDULLAH AL NOMAN
শত বছরের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়! শিক্ষা ব্যবস্থা গভীর সংকটে। ক্লাসে উপস্থিতি নেমেছে ১০-৩০ শতাংশে।
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৬:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সরকারি ভবনের ছাদে ৫ হাজার মেগাওয়াট রুফটপ সোলার বাস্তবায়নে কলাপাড়ায় গণসংযোগ ও ডিসি বরাবর স্মারকলিপি কলাপাড়ায় কলেজে দুই শিক্ষকের মারামারি; একজন হাসপাতালে ভর্তি বিবাহের পর বদলে যায় জীবন, বাড়ে দায়িত্ব ও সম্পর্কের গভীরতা স্টাইলিশ চুল আর সাদা রঙে আলোচনায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ ৩ যুগের দুর্ভোগের অবসান, অবশেষে শুরু মহিপুর-সেরাজপুর ওয়াপদা সড়কের উন্নয়ন কাজ সিটি ইউনিভার্সিটি ফার্মেসি ক্লাব (CUPC)-এর ৩য় কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা নীরবতার নগরী আজিমপুর কবরস্থান: ইতিহাস, সময় আর মৃত্যুর অনিবার্যতার স্মারক আজ বিশ্ব মা দিবস: নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, অসীম ত্যাগ ও মমতাময়ী সত্তার এক অনন্য উদযাপন ফেসবুকে বট ও ফেইক একাউন্টের দৌরাত্ম্য: চেনার উপায় ও প্রতিরোধের কৌশল মহিপুর টোল প্লাজায় অভিযান, যাত্রীবাহী বাসে মিললো বিপুল সামুদ্রিক মাছ

শত বছরের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়! শিক্ষা ব্যবস্থা গভীর সংকটে। ক্লাসে উপস্থিতি নেমেছে ১০-৩০ শতাংশে।

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশিত সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৩৯ জন দেখেছেন

নাজমুস সাকিব, কলাপাড়া
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা গভীর সংকটে পড়েছে। গৌরবময় ঐতিহ্য ধারণ করা এই প্রতিষ্ঠানটি তার মান ও মর্যাদা হারাতে বসেছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে নেই কোনো নিয়ম বা দায়বদ্ধতা; যার যার ইচ্ছেমতো চলছে ক্লাশে আসা-যাওয়া।
বর্তমানে ক্লাসভেদে শিক্ষার্থী উপস্থিতি নেমে এসেছে মাত্র ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টি কার্যত একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। গুটিকয়েক শিক্ষকের প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্যের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার স্বাভাবিক কোলাহলও এখন আর চোখে পড়ে না।
অভিযোগ রয়েছে শ্রেণিকক্ষে আন্তরিকভাবে পাঠদান করানো হয় না, বরং শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট কোচিংয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। বিষয়ভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষকই পাঠদানের সুযোগ পান না; বরং প্রভাবশালী কিছু শিক্ষক নিজেদের পছন্দমতো বিষয় পড়ান। এসব অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার ফলে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিভাবকরাও এক প্রকার জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন, একারণে তারা তাঁদের সন্তানের শিক্ষা ব্যয় বহনে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।
১৫ এপ্রিল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে ৫৫ জনের মধ্যে উপস্থিত মাত্র ৯ জন। মানবিক বিভাগে ৯১ জনের মধ্যে উপস্থিত ৬ জন, আর ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় কোনো শিক্ষার্থীই ছিল না। অষ্টম শ্রেণির একটি শাখায় ৬০ জনের মধ্যে উপস্থিত ১৬ জন। ষষ্ঠ শ্রেণির দুটি শাখায় যথাক্রমে ৬০ জনে ১৩ জন এবং ৮৫ জনে ২৫ জন উপস্থিত ছিল। এভাবেই চলছে ঐতিহ্যবাহী এই সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম।
ভর্তি তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ২৭৭ জন, সপ্তমে ২২২ জন, অষ্টমে ২০৬ জন, নবমে ১২৮ জন এবং দশমে ১৫৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৯৮৭ জন। এছাড়া নবম ও দশম ভোকেশনালে যথাক্রমে ১০১ ও ১১৩ জনসহ সর্বমোট শিক্ষার্থী ১২০১ জন। অথচ দৈনিক উপস্থিতি গড়ে এক-চতুর্থাংশের বেশি নয়।
শিক্ষকদের মতে, অভিভাবকদের অসচেতনতা এই পরিস্থিতির একটি বড় কারণ। অন্যদিকে অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে সঠিকভাবে পাঠদান হয় না। ফলে নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য হতে হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিদিন মোট ছয়টি পিরিয়ড অনুষ্ঠিত হবে। নবম ও দশম শ্রেণিতে প্রতিদিন পিরিয়ড হবে সাতটি করে। সব ক্লাশের প্রথম পিরিয়ডের সময়কাল ৬০ মিনিট। এরপরে প্রত্যেক পিরিয়ডের সময়কাল ৫০ মিনিট করে। এছাড়া প্রতিদিন প্রারম্ভিক সমাবেশ হওয়ার কথা অন্তত ১৫মিনিট। শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের ক্লাশ শুরুর অন্তত ১৫ মিনিট আগে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা স্পষ্ট করা রয়েছে। কোন শিক্ষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কোন কোচিং সেন্টারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হতে পারবেন না বলে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা রয়েছে। এসব নিয়ম অমান্য করলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেও এমপিও স্থগিতসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু মডেল এই বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এসবের নিয়মের কোন বালাই নেই। সব চলে আসছে ফ্রি-স্টাইলে।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন মেধাবী শিক্ষার্থী ও স্থপতি মো. ইয়াকুব খান বলেন, ‘আমাদের সকলের গর্বের প্রিয় প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর অনুপস্থিত বলে দেয় বিদ্যালয়টির শিক্ষা অবস্থা। কোনো রকমের জবাবদিহিতা না থাকায় অভিভাবক সমাজ সন্তান নিয়ে ভীষণ চিন্তিত। অভিভাবক মহল বাধ্য হয়ে সম্পূর্ণ কোচিং নির্ভর ফাঁদে সন্তানদের পড়ালেখায় বাধ্য হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দের এক সময়ের সুনাম,মূল্যবোধ ছাত্রদের প্রতি দায়বদ্ধতা যেন আজ শূন্যের কোঠায় পৌছেছে। অসুস্থ ও অস্থির যুবসমাজকে রক্ষা করতে শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণিকক্ষে ফিরাতে হবে। মুখস্থ নির্ভরতাকে সরিয়ে আনন্দদায়ক ও প্রযুক্তি নির্ভর পাঠদান ও মোবাইলের আসক্তি থেকে মাঠের খেলা মনোজগৎকে অধিক পরিচিত করার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘সমসাময়িক বিষয় নিয়ে স্টুডেন্টেদের মাঝে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সৃষ্টিশীল ভাবনার জগতকে প্রসারিত করবে যে বিদ্যালয়; সে বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজকে আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি জ্ঞান, সময়ানুবর্তিতা ও প্রশিক্ষণের বিকল্প নাই। তবে দুর্বল শিক্ষক দিয়ে কোনো কিছু রক্ষা হবে না।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম জানান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন, এমনকি অভিভাবকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগও করছেন। তবে তার দাবি, অভিভাবকদের অনীহাই বড় বাধা। তিনি আরও বলেন, নিজ বিদ্যালয়সহ বাইরের কিছু শিক্ষকের কোচিং চাপের কারণে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে—ক্লাসের পড়া নাকি প্রাইভেটের পড়া, তা নির্ধারণ করতে না পেরে তারা ধীরে ধীরে ক্লাসবিমুখ হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজর মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, শিক্ষার্থীদের ক্লোজ মনিটরিংয়ের জন্য শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ও আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির কারণেও উপস্থিতি কমে গেছে বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি অভিভাবকদের অসচেতনতা ও কোচিং নির্ভরতা এ সংকটের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ চলমান রয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, খেপুপাড়া মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ কলাপাড়ার সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদেও উপস্থিতি নিশ্চিতে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যা সম্মিলিতভাবে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
তবে খেপুপাড়ার ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান বেহাল দশায় অভিভাবকরা চরম উৎকন্ঠা প্রকাশ করেন। তারা মনে করেন, কোচিং নির্ভরতা ও অনিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ অস্তিত্ব সংকটে যার দ্রুত সমাধান না হলে এখানকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার সোসাল একাউন্টে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Powered by ITNexBD