পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬”। বৃহস্পতিবার (২৪ মে) উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়।
কৃষিতে সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (PARTNER) প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কলাপাড়া, পটুয়াখালী। এ প্রকল্পে সহযোগিতা করছে দ্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও আইএফএডি (IFAD)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জনাব মোঃ শাহাদত হোসেন। সভাপতিত্ব করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব কাউছার হামিদ।
এসময় কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
কংগ্রেসে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কৃষকদের আধুনিক ও টেকসই কৃষি পদ্ধতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। মাঠপর্যায়ে ফিল্ড স্কুল কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ শাহাদত হোসেন বলেন, কৃষিকে আরও লাভজনক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকের উন্নয়নই দেশের উন্নয়ন এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি স্থানীয় কৃষকদের নতুন নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ফিল্ড স্কুলের সফল কৃষকরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মাধ্যমে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হয়েছে।
পরে কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ কংগ্রেস নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।