প্রতিবেদনঃ তরিকুল ইসলাম সুমন
মহিপুর মৎস্য বন্দরে বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুতের অভাবে বরফকলগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে বরফ উৎপাদন। ফলে প্রয়োজনীয় বরফ না পেয়ে বন্দরে আটকে আছে একাধিক মাছ ধরার ট্রলার।
সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে ট্রলারগুলোতে পর্যাপ্ত বরফ মজুত করা জরুরি। সমুদ্র থেকে আহরণ করা মাছ তাজা রাখতে বরফের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বরফ উৎপাদন কমে যাওয়ায় মহিপুরে দেখা দিয়েছে বরফের সংকট।
জেলেদের অভিযোগ, বরফের জন্য অনেক ট্রলারকে দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ মহিপুরে বরফ না পেয়ে অন্য এলাকায় ছুটছেন বরফের সন্ধানে। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে ট্রলার পরিচালনার খরচ।
মহিপুরের জেলে রফিক সাহেব বলেন, “বরফ না পেয়ে অনেক ট্রলার দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছে। আবার কেউ কেউ মহিপুর থেকে বরফ সংগ্রহ করতে না পেরে অন্য জায়গায় বরফের খোঁজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনিতেই সাগরে মাছ নেই। এর মধ্যে কিছুদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে অবরোধ। তাই এই অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকটি ট্রিপ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল আমাদের। কিন্তু বরফের যে অবস্থা, তাতে মনে হচ্ছে সময়মতো ট্রিপ দিতে পারব না।”
জেলেরা বলছেন, সাগরে মাছের সংকটের কারণে এমনিতেই তারা লোকসানের মুখে রয়েছেন। এর মধ্যে সামনে রয়েছে মাছ ধরার ওপর আসন্ন অবরোধ। তাই অবরোধ শুরুর আগে অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকটি ট্রিপ দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। কিন্তু বরফ সংকটের কারণে সেই সুযোগও হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের মতে, মহিপুরের মৎস্যবন্দরকে ঘিরে হাজারো মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। জেলেদের পাশাপাশি বরফকল, আড়তদার, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গেও বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হলে এর প্রভাব পড়ে পুরো মৎস্যবন্দরের কার্যক্রমে।
জেলেদের প্রশ্ন—পর্যাপ্ত বরফ না থাকলে কীভাবে ট্রলার সাগরে যাবে? আর সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও যদি দুই-তিন দিন বরফের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে অবরোধের আগে কাঙ্ক্ষিত কয়েকটি ট্রিপ দেওয়া কি আদৌ সম্ভব হবে?
জেলেদের দাবি, দ্রুত মহিপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত বরফ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সামনে অবরোধের আগে যে অল্প সময়টুকু রয়েছে, সেটিও কাজে লাগাতে পারবেন না উপকূলের জেলেরা।