আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০২৬। নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধের ব্যবহার নিশ্চিত করা, রোগীর চিকিৎসাসেবায় ফার্মাসিস্টদের ভূমিকা তুলে ধরা এবং জনস্বাস্থ্যে তাদের অবদানকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই প্রতিবছর এ দিবসটি পালন করা হয়।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য “Empowering pharmacists for healthier futures”। বাংলায় যার ভাবার্থ— “স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যতের জন্য ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়ন”।
স্বাস্থ্যসেবায় ফার্মাসিস্টদের দায়িত্ব কেবল ওষুধ সরবরাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধের সঠিক ব্যবহার, নির্ধারিত মাত্রা ও প্রয়োগবিধি সম্পর্কে পরামর্শ, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ওষুধের পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কে রোগীকে সচেতন করা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও তারা ভূমিকা রাখেন।
আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যপেশাজীবীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে রোগীকেন্দ্রিক ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ফার্মাসিস্টদের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ফার্মাসিস্টদের শিক্ষা, দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। মানসম্মত ওষুধ, যৌক্তিক ওষুধ ব্যবহার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ফার্মাসিস্ট গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও এতে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। ফার্মেসি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ফার্মাসিস্ট ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর উদ্যোগে র্যালি, আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।
বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় ফার্মাসিস্টদের অবদানকে আরও দৃশ্যমান করা এবং একটি দক্ষ, দায়িত্বশীল ও রোগীকেন্দ্রিক ফার্মেসি পেশা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন রোগ, নতুন ওষুধ, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি রোগের বিস্তার এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবার বিকাশ ভবিষ্যতের ফার্মাসিস্টদের সামনে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
এ কারণে ভবিষ্যৎ ফার্মাসিস্টদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। তাদের Clinical Knowledge, Communication Skills, Research Skills, Digital Literacy, Professional Ethics এবং Evidence-Based Practice-এর মতো দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।
দিবসটির মূল বার্তা হলো— ফার্মাসিস্টদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতায় বিনিয়োগের মাধ্যমে আরও নিরাপদ, কার্যকর ও স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।