হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এ হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ এবং ‘ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের জবাবে প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। (Reuters)
প্রথম দফার হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের জাস্ক ও বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানায় দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো। পরে কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এসব ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী দফার হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে। (Reuters, Associated Press)
এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে টহলরত একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জবাব দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনিবার্য। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া হবে ‘খুবই শক্তিশালী’। একই সঙ্গে ট্রাম্প ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। (Reuters, Associated Press)
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির আশপাশে অবস্থিত ইরানের একাধিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার এবং সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সেন্টকমের দাবি, এসব স্থাপনা থেকে আঞ্চলিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করা হচ্ছিল। (Axios, Reuters)
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এই সামরিক পদক্ষেপ চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বা যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ব্যাহত করবে বলে ওয়াশিংটন মনে করে না। তার ভাষ্য, হামলাটি মূলত একটি সতর্কবার্তা হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। (Axios)
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হুমকিই জবাব ছাড়া থাকবে না। তিনি বিদেশি সামরিক বাহিনীকে অঞ্চল ত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরাপদ থাকতে চাইলে তাদের এই অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে। (Reuters, Associated Press)
Sources: Reuters, Axios, Associated Press