1. akmnazmuzsakib@gmail.com : Nazmus Sakib : Nazmus Sakib
  2. khairunnahar311984@gmail.com : কলাপাড়া পোস্ট :
  3. necharlenovo@gmail.com : Nechar Uddin : Nechar Uddin
  4. nex@farabiblog.com : Nex2 :
  5. mdabdullahalnoman819@gmail.com : MD. ABDULLAH AL NOMAN : MD. ABDULLAH AL NOMAN
পাতায় পাতায় ঘাম, গল্পে গল্পে জীবন চা-বাগানের সেই মানুষগুলো
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বৃষ্টি, পাহাড় আর ঝর্ণা রোমাঞ্চে একদিন: কনকসাসের সীতাকুণ্ড ভ্রমণ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝায় বিপাকে ৯৪ হাজার গ্রাহক শাফি ও জুবায়েরের তাজিংডং শীর্ষ জয়, তিন দিনে পাড়ি দিলেন দুর্গম পাহাড়ি পথ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে ৯ দফা দাবিতে কলাপাড়ায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন কলাপাড়ার ডালবুগঞ্জে যিনি আলোকিত করেছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম, বিদায়ের দিনে কেন তিনি মঞ্চের এক কোণে পেনশন পেতে আর নয় হয়রানি, চালু হচ্ছে অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ​ছাত্র কাউন্সিল নেতা সুজয় বিশ্বাস কর্তৃক নারী নিপীড়ন ও ভিকটিম ব্লেমিংয়ের প্রতিবাদে বরিশালে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ বড়পর্দায় আসছে ‘ডোরেমন’; নতুন সমুদ্রতল অভিযানে নোবিতা ও তার বন্ধুরা কলাপাড়ায় রেলিং ভেঙে খাদে প্রাইভেটকার, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন দুই আরোহী বিশ্ব বাবা দিবস আজ: যে মানুষটি নীরবে আগলে রাখেন পুরো পরিবার

পাতায় পাতায় ঘাম, গল্পে গল্পে জীবন চা-বাগানের সেই মানুষগুলো

মো: আবদুল্লাহ আল যোবায়ের
  • প্রকাশিত সময়ঃ রবিবার, ১ জুন, ২০২৫
  • ৬৫৯ জন দেখেছেন

সবুজের সমারোহে ঘেরা চা বাগানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভাবছি কত শ্রমিকের ঘামে দাঁড়িয়ে হাসে
প্রকৃতির সুরেলা মেলোডি! চা বাগানের সৌন্দর্য এবং সেখানকার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলছেন আবদুল্লাহ আল যোবায়ের

সূর্য ওঠার আগে ঘর ছাড়েন, সন্ধ্যার আগে ফেরেন না। গায়ে কুয়াশা, হাতে ঝুড়ি ওরাই এই চা বাগানের নীরব কারিগর।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সবুজ পাহাড়ঘেরা চা-বাগান গুলো যেন শুধু সৌন্দর্যের নয়, কষ্টেরও জীবন্ত নিদর্শন। এখানকার হাজারো চা-শ্রমিক প্রতিদিন সূর্য উঠার আগেই শুরু করেন তাঁদের কর্মযাত্রা। চোখ ধাঁধানো সবুজ পাতার নিচে জমে থাকে শত শত পরিবারের ঘাম, সংগ্রাম আর একরাশ অপূর্ণ স্বপ্ন। সকাল থেকে সন্ধ্যা জীবনযুদ্ধের গল্প: চা-বাগানের শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করলেও তাঁদের মজুরি এখনো ১৭০ টাকা থেকে খুব বেশি না। নারী-পুরুষ উভয়েই সমান পরিশ্রম করেন — কেউ পাতার ঝুড়ি টানেন, কেউ ডালপালা ছেঁটেন।

শান্তি দাসী, বয়স ৪২, এই বাগানে কাজ করছেন অনেক বছর। তিনি বলেন: সকাল ৬টায় উঠে যাই বাগানে। রোদ-বৃষ্টি কিছু দেখি না। পাতায় পাতায় ঘাম ফেলি। মাস শেষে যা পাই, তা দিয়ে ঠিকমতো চালও হয় না।

জীবনের ছায়াপথে — স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সংকট: বাগানপাড়ার ছোট ছোট ঘরগুলোতে নেই স্বাস্থ্যসেবা, নেই কোন মানসম্মত স্কুল।
চা-শ্রমিকদের বেশিরভাগই পুষ্টিহীনতায় ভোগেন। কোনো বড় অসুস্থতা এলে শহরে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার সামর্থ্য নেই। সরকারি হাসপাতালে সুযোগ পেলেও চিকিৎসা পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়।

শিক্ষার আলো যেখানে ম্লান: বাগানের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার হার কম। অনেকে কাজের চাপ আর দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। তবে আশার কথা — কিছু বেসরকারি সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্থানীয় তরুণেরা এই শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রকল্প শুরু করেছেন।

পরিবর্তনের আশা: সরকারি উদ্যোগে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রভাব কম। ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থানের উন্নয়ন ও শিক্ষার সুযোগ — এগুলোর ব্যবস্থা ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব নয়। চা শ্রমিকরা শুধুই শ্রমিক নন, তাঁরা বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের জীবনমান উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়নই এগিয়ে যাওয়া। শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান শুধু ভ্রমণপিপাসুদের নয়, মানবিক চোখেও দেখার বিষয়। পাহাড়, সবুজ, পাতা আর কুয়াশার ভেতর লুকিয়ে আছে মানুষের জীবন; যাদের কষ্টের গল্প তুলে ধরা আমাদের সকলের দায়িত্ব।

লেখক
শিক্ষার্থী
শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ

আপনার সোসাল একাউন্টে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Powered by ITNexBD