প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার মতোই নিয়মিত অন্তর্বাস পরিবর্তনের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছেলে-মেয়ে উভয়েরই দিনে অন্তত দুইবার, অর্থাৎ প্রায় ১২ ঘণ্টা পরপর অন্তর্বাস বদলানো উচিত। বিশেষ করে শীতকালে অনেকেই এ বিষয়ে উদাসীন হয়ে পড়েন, যা পরবর্তীতে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
সম্প্রতি আমেরিকার “ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল এক্সেলেন্স”-এর এক লাইফস্টাইল গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ২ হাজার মানুষের মধ্যে ৪৫ শতাংশ নিয়মিত অন্তর্বাস পরিবর্তন করেন না। চিকিৎসকদের মতে, এই অসচেতনতা থেকে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, সংক্রমণ এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বাস সবসময় পরিষ্কার, সুতির ও ঢিলাঢালা হওয়া উচিত। হালকা রঙের অন্তর্বাস ব্যবহার করলে ময়লা বা অস্বাভাবিক দাগ সহজে চোখে পড়ে। এছাড়া অতিরিক্ত আঁটসাঁট অন্তর্বাস ব্যবহার না করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা, বিশেষ করে কিশোর ও বয়ঃসন্ধিকালীন তরুণদের ক্ষেত্রে।
চিকিৎসকদের মতে, যারা বেশি ঘামেন বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন তাদের প্রতিদিন অন্তর্বাস পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি। অপরিষ্কার অন্তর্বাস থেকে উরুসন্ধি, পুরুষাঙ্গ ও অণ্ডথলিতে দুর্গন্ধ, চুলকানি, ঘা কিংবা সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।
এছাড়া পলিয়েস্টার বা সিনথেটিক উপাদানে তৈরি অন্তর্বাস দীর্ঘসময় ব্যবহার করলে শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। রাতে ঘুমানোর সময় ঢিলেঢালা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে শরীর স্বাভাবিকভাবে বায়ু চলাচল করতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার এই ছোট অভ্যাসই বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন।