পটুয়াখালীর মহিপুর ইউনিয়নের সঙ্গে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নকে সংযুক্ত করা কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিন আগে নির্মাণ শেষ হওয়া এই সেতুটি এখন ভাঙনের পথে যাওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পেয়ারপুরের একটি বড় খালে বাঁধ দেওয়ার ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পেয়ারপুরের বড় খালে বাঁধ দেওয়ার ফলে পাশের ছোট খালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে ওই ছোট খালে পানির চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অতিরিক্ত পানির স্রোতের কারণে সেতুর নিচের খুঁটি (পিলার) এবং সেতুর পাশের সুরক্ষা বাঁধ ভেঙে যেতে শুরু করেছে।
এলাকাবাসী জানান, প্রবল পানির স্রোতের কারণে শুধু সেতুই নয়, আশপাশের বসতবাড়িও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকটি পরিবার যেকোনো সময় ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
ঘরের ভিটা হারানো মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,
“আমরা গরিব মানুষ। আমাদের সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিছু শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই যেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আমাদের জন্য কিছু করেন—এইটাই আমাদের আবেদন।”
এদিকে খালের ভাঙনের কারণে আশপাশের মানুষের জীবন-জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে। খালের পাশের অনেকের চাষের জমি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আবার কারও কারও শেষ আশ্রয়স্থলও এই ভাঙনের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন একটু একটু করে ভাঙন এগিয়ে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন মহিপুর ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের শত শত মানুষ চলাচল করে। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগীসহ সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দুই ইউনিয়নের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী। তারা পেয়ারপুর খালের বাঁধ পুনর্বিবেচনা করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, সেতুর কারিগরি পরীক্ষা ও জরুরি মেরামত কাজ শুরু করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন।