জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)
বাংলাদেশের একমাত্র আবাসিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান
ঢাকার উপকণ্ঠে সাভারে অবস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি স্বায়ত্তশাসিত, গবেষণামূলক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এটি দেশের প্রথম ও একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত।
প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস
১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তান সরকার এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে “জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে, ১৯৭৩ সালে “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়” নামে পুনঃনামকরণ করা হয়।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ হয়েছে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে, যিনি ঢাকার পূর্বনাম “জাহাঙ্গীরনগর”-এর উৎস।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি ঢাকায় নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার পরিকল্পনা শুরু হয়। ১৯৬৭ সালে ঢাকার ৩২ কিলোমিটার উত্তরে সরকারি ডেইরি ফার্মের ৭৫০ একর জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত হয় এবং ১৯৬৮ সালে ‘জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প’ নামে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন ড. সুরত আলী খান।
১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে অধ্যাপক ড. মফিজউদ্দিন আহমদ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং নভেম্বরে প্রথমবারের মতো ছাত্র ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়।
১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন তৎকালীন গভর্নর ও চ্যান্সেলর রিয়ার অ্যাডমিরাল এস. এম. আহসান। তার আগেই, ৪ জানুয়ারি থেকে অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত ও পরিসংখ্যান বিভাগে ১৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু হয়।
১৯৭৩ সালের ৮ আগস্ট জাতীয় সংসদে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট’ পাস হলে, এটি পূর্ণাঙ্গভাবে “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়” নামে আত্মপ্রকাশ করে।
একাডেমিক কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য
শুরুতে একটি অনুষদ ও চারটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে এখানে রয়েছে—
৬টি অনুষদ,
৩৬টি বিভাগ,
৪টি ইনস্টিটিউট,
২১টি আবাসিক হল।
বাংলাদেশের প্রথম নৃবিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ এবং একমাত্র প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এই বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আবাসিক পরিবেশ
বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি খোলামেলা ক্যাম্পাসে অবস্থিত।
বারোমাসি জলাধার, শীতের অতিথি পাখি, এবং সবুজ বনানী এখানকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এটি দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ আবাসিক পরিবেশে বসবাস ও পড়াশোনা করে।
সংস্কৃতি ও ছাত্রজীবন
শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতা, সাংস্কৃতিক চর্চা, এবং সামাজিক অংশগ্রহণ এখানে অত্যন্ত সক্রিয়।
প্রতিবছর আয়োজিত পাখিমেলা, বসন্ত উৎসব, ও ভালোবাসা দিবসের আয়োজন জাবির ছাত্রজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি এক অনন্য সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।
—
লেখা : আফসানা মিম
বিভাগ: আরবি বিভাগ
প্রতিষ্ঠান: কবি নজরুল সরকারি কলেজ