1. akmnazmuzsakib@gmail.com : Nazmus Sakib : Nazmus Sakib
  2. khairunnahar311984@gmail.com : কলাপাড়া পোস্ট :
  3. necharlenovo@gmail.com : Nechar Uddin : Nechar Uddin
  4. nex@farabiblog.com : Nex2 :
  5. mdabdullahalnoman819@gmail.com : MD. ABDULLAH AL NOMAN : MD. ABDULLAH AL NOMAN
নীরবতার নগরী আজিমপুর কবরস্থান: ইতিহাস, সময় আর মৃত্যুর অনিবার্যতার স্মারক
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নীরবতার নগরী আজিমপুর কবরস্থান: ইতিহাস, সময় আর মৃত্যুর অনিবার্যতার স্মারক আজ বিশ্ব মা দিবস: নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, অসীম ত্যাগ ও মমতাময়ী সত্তার এক অনন্য উদযাপন ফেসবুকে বট ও ফেইক একাউন্টের দৌরাত্ম্য: চেনার উপায় ও প্রতিরোধের কৌশল মহিপুর টোল প্লাজায় অভিযান, যাত্রীবাহী বাসে মিললো বিপুল সামুদ্রিক মাছ পদ্মাপাড়ের প্রাচীন আলো: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) – বাংলাদেশের একমাত্র আবাসিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের তারুণ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশের দাবিতে কবি নজরুল কলেজে ছাত্র অধিকারের চার দফা স্মারকলিপি কলাপাড়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু মৃত্যুর পথে কলাপাড়ার আন্ধারমানিক নদী, হারিয়ে যাচ্ছে অস্তিত্ব

নীরবতার নগরী আজিমপুর কবরস্থান: ইতিহাস, সময় আর মৃত্যুর অনিবার্যতার স্মারক

আফসানা মিম
  • প্রকাশিত সময়ঃ রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ৬৮ জন দেখেছেন

ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের কোলাহলের মাঝেই এক ভিন্ন নীরবতার জগৎ বিস্তৃত হয়ে আছে আজিমপুর কবরস্থান জুড়ে। মানুষের জীবনযাত্রার উন্মত্ত গতি যেখানে থামে, সেখানে শুরু হয় চিরনিদ্রার এক নিঃশব্দ অধ্যায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই কবরস্থান যেন নীরবে বয়ে বেড়াচ্ছে মানুষের জীবন, মৃত্যু আর স্মৃতির অসংখ্য গল্প ।
ঢাকা শহরের ঐতিহাসিক এলাকা লালবাগ-এ অবস্থিত এই সমাধিক্ষেত্রের আয়তন প্রায় সাড়ে ৭৪ বিঘা, যা প্রায় ৩২ একরের সমান। ইতিহাসবিদদের মতে, এর শিকড় পৌঁছে যায় মুঘল আমলে; তবে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কবরস্থান হিসেবে গড়ে ওঠে। বর্তমানে এর সার্বিক ব্যবস্থাপনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
সময়ের সাথে সাথে শহরের জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে এই কবরস্থানের উপর চাপও। বর্তমানে এখানে নতুন কবর সংরক্ষণ বা রিজার্ভেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪৫টি মরদেহ এখানে দাফন করা হয়। ফলে ১৮ মাস পর পুরোনো কবরের ওপরই আবার নতুন করে দাফনের প্রথা অনুসরণ করা হচ্ছে। পুরোনো কবর খননের সময় যদি কোনো হাড় পাওয়া যায়, তা শ্রদ্ধার সঙ্গে নিচে সংরক্ষণ করে নতুন দাফন সম্পন্ন করা হয়—জীবনের মতো মৃত্যুতেও যেন থাকে এক ধরনের ধারাবাহিকতা।
নগর ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে কবরস্থানটিকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। অনলাইনে দাফনকৃত ব্যক্তিদের তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে স্বজনরা সহজেই খুঁজে নিতে পারছেন তাদের প্রিয়জনের কবরের অবস্থান।
প্রায় ১,৬০০ মিটার দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর ঘেরা এই কবরস্থানের ভেতরে রয়েছে ১৬৮টি হাঁটার পথ, যাতে জিয়ারতকারীরা সহজে চলাচল করতে পারেন। সারি সারি সবুজ ঘাসে ঢাকা কবর আর ছায়াঘেরা গাছপালার মাঝে দাঁড়িয়ে মনে হয়—এ যেন জীবনের শেষ ঠিকানায় শান্তির এক অনন্ত নিবাস।
তবে এই নীরবতার আড়ালেও রয়েছে কিছু অস্বস্তিকর অভিযোগ। সম্প্রতি কবর দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে কিছু অসাধু ব্যক্তির চাঁদাবাজির খবর পাওয়া গেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবু সবকিছুর পরও, শত বছরেরও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা আজিমপুর কবরস্থান যেন মনে করিয়ে দেয় মানুষের জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা। এখানে প্রতিটি কবর এক একটি গল্প, এক একটি সময়ের দলিল—আর পুরো কবরস্থানটি যেন ঢাকার ইতিহাসের এক নীরব, কিন্তু গভীর।

আপনার সোসাল একাউন্টে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Powered by ITNexBD