ডেস্ক রিপোর্টঃ
২২ জুন ২০২৬ গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় বিশ্বাস শুভ কর্তৃক একাধিক নারী নিপীড়ন ও ক্রমাগত ভিকটিম ব্লেমিংয়ের প্রতিবাদ এবং চার দফা দাবিতে আজ ২২ জুন; বেলা ১১ টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল প্রাঙ্গণে ‘বরিশালের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীবৃন্দের’ আয়োজনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে সরকারি ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্র নেতা হুজাইফা রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন – সরকারি ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষার্থী সালাম বাবর, গ্লোবাল ভিলেজ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাধনা হাওলাদার, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল ইসলাম নাহিদ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ বেলাল প্রমুখ।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৪ দফা দাবিগুলো হলো:
১. যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল কার্যকর: প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনানুযায়ী ‘যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল’ পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে হবে।
২. ভিকটিম ব্লেমিং বন্ধকরণ: ভুক্তভোগী নারীদের চরিত্রহনন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং ক্রমাগত ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৩. আইনি সহায়তার দায়ভার: ভুক্তভোগী নারীরা যাতে আইনি লড়াইয়ে কোনো আর্থিক বা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার শিকার না হন, সেজন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মামলার যাবতীয় খরচ এবং আইনি সহায়তার দায়ভার নিতে হবে।
৪. স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপ: নারী অধিকার কর্মী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের যুক্ত করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; একই সাথে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকেও অতিসত্বর সুজয় বিশ্বাস শুভর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
উক্ত সমাবেশ থেকে বক্তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়ে সংগঠনের চরম নিষ্ক্রিয়তা এবং উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ক্ষোভের বিষয় যে, সুজয় বিশ্বাস শুভর মতো একজন চিহ্নিত নারী নিপীড়কের বিরুদ্ধে একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠার পরও এখন পর্যন্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। আরও লজ্জাজনক বিষয় হলো, তার নিজের সংগঠন ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল’ প্রগতিশীলতার বুলি আওড়ালেও এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। প্রগতিশীল রাজনীতির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অপরাধীকে এভাবে বাঁচানোর চেষ্টা এবং সাংগঠনিক নীরবতা মূলত অপরাধকে সরাসরি প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল।”
বক্তারা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক বিষয় হলো, অভিযুক্ত সুজয় বিশ্বাস শুভর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, উল্টো গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা সম্মিলিতভাবে ভিকটিমদের চরিত্রহনন এবং ‘ভিকটিম ব্লেমিং’-এর সর্বোচ্চ অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যারা এই অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ভুক্তভোগী নারীদের পক্ষে কথা বলছেন, তাদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে এই সংগঠনের সবাই। শুধু তাই নয়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিবাদ দমানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”
বক্তারা এই কুৎসিত অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “প্রগতিশীলতার মুখোশ পরে যারা অনলাইন ও অফলাইনে ভিকটিম ব্লেমিং করছে এবং প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে, তাদের এই ফ্যাসিবাদী আচরণ বরিশালের ছাত্রসমাজ মুখ বুজে সহ্য করবে না। ভয়ভীতি বা হুমকি দিয়ে এই ন্যায়সংগত প্রতিবাদ ও ভিকটিমদের কন্ঠস্বর স্তব্ধ করা যাবে না। আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই – অবিলম্বে এই নোংরা চরিত্রহনন ও হুমকি-ধামকি বন্ধ করুন। অন্যথায়, প্রতিটি সাইবার হেনস্তাকারী ও হুমকিদাতার মুখোশ উন্মোচন করে তাদেরকেও এই গণপ্রতিরোধের মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।”