আফসানা মিম, ঢাকা
রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা -এ দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ছিল ছোট ছোট দোকানপাটের দখলে। ফলে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হতো, অনেককে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করতে হতো। সম্প্রতি প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করছেন, তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার প্রশ্ন এখনও অনসুলভ।
গুলিস্তান মানেই ব্যস্ত নগরজীবন-মানুষের ভিড়, যানজট এবং অবিরাম চলাচল। একসময় ফুটপাতগুলোতে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। দোকানপাটে ঠাসা জায়গার কারণে মানুষ নামতে বাধ্য হতো সড়কে। উচ্ছেদের পর ফুটপাত এখন অনেকটাই খালি ও স্বচ্ছন্দে হাঁটার উপযোগী। পথচারীরা বলছেন, এখন আর ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে না। ফুটপাত যেন আবার আমাদের হাতে ফিরে এসেছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা নাগরিক নিরাপত্তা ও শহরের শৃঙ্খলার জন্য প্রয়োজন। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা বিবেচনা করা না হলে সামাজিক সংকট তৈরি হতে পারে। পরিকল্পিত পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা থাকলে এ উদ্যোগ আরও মানবিক ও টেকসই হতো।
এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, (ইউডা) শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় পথচারীদের চলাচল সহজ হয়েছে। তবে হঠাৎ উচ্ছেদের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আয়ের পথ হারিয়েছে। সরকারের উচিত ছিল বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসনের আয়োজন করা, যাতে শৃঙ্খলা ও মানবিকতার মধ্যে ভারসাম্য থাকে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বলছেন,আমরা ফুটপাত দখলমুক্তির প্রয়োজনীয়তা মানি। তবে হঠাৎ উচ্ছেদের কারণে আমাদের পরিবার চালানোর পথ বন্ধ হয়ে গেছে। যদি বিকল্প ব্যবস্থা থাকত, আমাদেরও কিছু করে নেওয়ার সুযোগ থাকত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত করা সময়োপযোগী। তবে একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকলে উদ্যোগটি মানবিক ও টেকসই হতো।
ফুটপাত ফিরে পাওয়ায় পথচারীরা স্বস্তি পেয়েছেন। কিন্তু এই স্বস্তির পথের ভেতরে লুকিয়ে আছে বহু মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প-যা আমাদের শহর ব্যবস্থাপনার নৈতিক ও মানবিক দিকগুলোকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।