1. akmnazmuzsakib@gmail.com : Nazmus Sakib : Nazmus Sakib
  2. khairunnahar311984@gmail.com : কলাপাড়া পোস্ট :
  3. necharlenovo@gmail.com : Nechar Uddin : Nechar Uddin
  4. nex@farabiblog.com : Nex2 :
  5. mdabdullahalnoman819@gmail.com : MD. ABDULLAH AL NOMAN : MD. ABDULLAH AL NOMAN
এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই শূন্য ছয়টি চেয়ার: নেই তারা, আছেন স্মৃতিতে
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ নিতে কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে একযোগে আঘাত আইআরজিসি’র জ্যোতিষির ভবিষ্যত বানী: ফুটবল বিশ্ব কাপে চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে ফ্রান্স ইরানের কেশম দ্বীপ, জাস্ক ও বন্দর আব্বাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা সীমান্তে নতুন উত্তেজনা: একাধিক ‘পুশ-ইন’ চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি বিজিবির বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মানুষের ওপর চাপ বাড়াবে: সিপিডি কলাপাড়ার পানি জাদুঘর: ৮৭ নদীর পানি আর নদীসভ্যতার ইতিহাসের এক অনন্য ভাণ্ডার কলাপাড়ার তেগাছিয়া খেয়াঘাটে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বিশ্বকে এল নিনোর জন্য প্রস্তুত হতে বলল জাতিসংঘ, চরম আবহাওয়ার শঙ্কা কলাপাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত: নৃশংস হত্যাকাণ্ডে প্রশাসনের ভূমিকা কি? “বাংলাদেশকে দুর্নীতির শীর্ষে তুলেছিল আগের সরকার” — ১২ মার্চ সংসদে রাষ্ট্রপতির মন্তব্য

এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই শূন্য ছয়টি চেয়ার: নেই তারা, আছেন স্মৃতিতে

মোঃ আবদুল্লাহ আল নোমান
  • প্রকাশিত সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫
  • ৬০২ জন দেখেছেন

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) শুরু হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। রাজধানীসহ দেশের সব কলেজে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির দীর্ঘ পথচলার সমাপ্তি ঘটল আজকের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। পরীক্ষার্থীরা জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখছে, হাতে কলম, চোখে স্বপ্ন। তবে এই নতুন শুরুতে কিছু চেয়ার রয়ে গেছে শূন্য, কিছু নাম ডাকা হয়নি উপস্থিতির খাতায়

সেই চেয়ারে বসার কথা ছিল ছয় তরুণের—আবদুল্লাহ বিন জাহিদ, মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়া (ফারহান ফাইয়াজ), শাফিক উদ্দিন আহমেদ আহনাফ, আফিকুল ইসলাম সাদ, মারুফ হোসেন ও মো. আব্দুল আহাদ সৈকত। আজকের পরীক্ষায় তাদেরও অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা কেউ নেই।

গত বছর জুলাই ও আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল এই তরুণরা। পুলিশের গুলিতে নিহত হন তারা। কেউ শহীদ হয়েছেন জুলাইয়ের মাঝামাঝি, কেউবা আগস্টের শুরুতে। অনেকে মৃত্যুর আগমুহূর্তেও ফেসবুকে লিখে গেছেন বিদায় বার্তা, কিছু স্বপ্ন, কিছু আশা। আর আজ তাদের সহপাঠীরা পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার সময় চোখের কোণ মুছে নিয়েছে। বন্ধুরা নেই, আছে শুধু তাদের গল্প, কিছু না-পাওয়া, আর গভীর শোক।

আবদুল্লাহ বিন জাহিদ, শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাতে উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। মৃত্যুর তিন মাস পর ছিল তার ১৭তম জন্মদিন। তার মা ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, “ওর বন্ধুদের মুখে যেন আমার ছেলেকে খুঁজে পাই।” তিনি এখনো সন্তানহারা শোকে কাতর। তার ছোট ছেলের ক্যানসার ও স্বামীর মৃত্যুও তাকে করেছে একা।

ফারহান ফাইয়াজ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৮ জুলাই আন্দোলনের সময় বুকের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। গবেষক হবার স্বপ্ন ছিল তার। বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া জানালেন, “ও বিদেশে পড়তে চেয়েছিল, দেশে ফিরে গবেষণায় কাজ করতে চেয়েছিল।”

আহনাফ, বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। গানপ্রিয়, স্কাউট সদস্য, বন্ধুদের ভরসাস্থল। ৪ আগস্ট মিরপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। মঙ্গলবার তার মাকে গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। পুরস্কার হাতে নিয়েই তিনি ছেলের প্রতিকৃতিতে চোখ রেখে কেঁদে ফেলেন, বললেন, “আজ ও বেঁচে থাকলে পরীক্ষায় যেত।”

মারুফ হোসেন, ১৯ বছর বয়সী তরুণ, ২০১৮ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই নজরদারির মধ্যে ছিলেন। ১৯ জুলাই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গুলিবিদ্ধ হন। তিন দিন পর তার মরদেহ পাওয়া যায় অর্ধগলিত অবস্থায়। বাবা জানান, “কবরস্থান থেকে বলা হয়েছে ১০ লাখ টাকা না দিলে কবর রাখবে না।”

সৈকত, ঢাকা কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। ৫ আগস্ট বাবার সঙ্গে বিজয় মিছিলে অংশ নেন। সন্ধ্যায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। বাবা বলেন, “আমি পাশে ছিলাম, কিছু করতে পারিনি।”

সাদ, সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র। ফ্রিল্যান্সার ও ডিজাইনার হিসেবে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাইতেন। ৪ আগস্ট রাতে ফেসবুকে শেষ পোস্টে লিখেছিলেন, “যে দেশের ইতিহাস রক্ত দিয়ে শুরু হয়েছে, ওই ইতিহাস আবার লিখতে রক্তই লাগবে।” ৮ আগস্ট মারা যান ধামরাইয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে।

আজকের দিনটা কাউকে এনে দিয়েছে নতুন পথচলার সুযোগ, কাউকে দাঁড় করিয়েছে অসীম শূন্যতায়। কেউ কলম হাতে পরীক্ষা দিয়েছে, কেউ দাঁড়িয়ে থেকেছে সন্তানহারা কবরের পাশে। কেউ পরীক্ষার পর ফিরে পেয়েছে মায়ের কোলে সান্ত্বনা, কেউ ফিরেছে কেবল একটা ছবির দিকে তাকিয়ে।

তারা আজ নেই, কিন্তু তাদের গল্প আছে—ভরা আছে অশ্রুতে, সাহসে, আর রক্ত দিয়ে লেখা ইতিহাসে।
তাদের চেয়ার শূন্য, কিন্তু স্মৃতিতে পূর্ণ।

 

আপনার সোসাল একাউন্টে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Powered by ITNexBD