কবি নজরুল সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতি (কনকসাস)-এর আয়োজনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি রোমাঞ্চকর শিক্ষা ও আনন্দভ্রমণ। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, অবিরাম বৃষ্টি, পাহাড় আর ঝর্ণা, দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
আমাদের যাত্রা শুরু হয় রাত ১২টায় সায়েদাবাদ থেকে। পুরো পথজুড়েই ছিল টানা বৃষ্টি। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার ভ্রমণ শেষে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আমরা সীতাকুণ্ডে পৌঁছাই। সকালের নাস্তা শেষ করে একটি হোটেলে ব্যাগপত্র রেখে শুরু হয় আমাদের মূল অভিযান।
প্রথমে আমরা সীতাকুণ্ড ব্রিজের নিচে গিয়ে পাহাড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় বাঁশ ও পায়ের হ্যান্ডেল সংগ্রহ করি। আমাদের দলে ছিলেন মোট ২০ জন। এরপর প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই শুরু হয় চন্দ্রনাথ পাহাড়ে আরোহন। ভেজা ও পিচ্ছিল পথ, খাড়া উঁচু ঢাল—সবকিছু মিলিয়ে যাত্রাটি ছিল যথেষ্ট কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। পথিমধ্যে ছোট ছোট মুদি দোকানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে বিখ্যাত লেবুর পিনিক,চিপস,কেক ইত্যাদি এবং পানি পান করি, যা ক্লান্তি দূর করতে দারুণ সহায়ক ছিল।
অনেক পরিশ্রমের পর আমরা সফলভাবে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাই। পাহাড়ের চূড়া থেকে চারপাশের সবুজ প্রকৃতি আর মেঘে ঢাকা পাহাড়ের দৃশ্য যেন সব কষ্ট মুহূর্তেই ভুলিয়ে দেয়।
পাহাড় থেকে নেমে আমরা সহস্রধারা ঝর্ণার উদ্দেশ্য রওনা হই। ৫০ টাকা প্রবেশমূল্য দিয়ে প্রায় ৫০০ সিঁড়ি অতিক্রম করে পৌঁছাই ঝর্ণার কাছে। অবিরাম বৃষ্টি আর ঝর্ণার প্রবল স্রোত মিলেমিশে সৃষ্টি করেছিল এক অনন্য সৌন্দর্য। তবে ঝর্ণার পথে জোঁকের উপদ্রব ছিল বেশ। আমিসহ আমার এক সিনিয়র, বাইজীদ ইসলাম সাদ ভাই, জোঁকের শিকার হই। কাছেই সুপ্তধারা ঝর্ণা থাকলেও অতিরিক্ত বৃষ্টি ও স্রোতের কারণে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
সীতাকুণ্ড ইকো পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনি এখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও সহজ যানবাহনের সুবিধা প্রায় নেই বললেই চলে। তাই ভ্রমণে গেলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
ঝর্ণার ভ্রমণ শেষে প্রায় ৬ কিলোমিটার হেঁটে আমরা স্থানীয় একটি খাবারের হোটেলে পৌঁছাই। আমরা সব মিলিয়ে ৬ ঘন্টা হাঁটি। দুপুরের খাবার শেষে হোটেলে ফিরে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিই।
সব মিলিয়ে দিনটি ছিল রোমাঞ্চ, চ্যালেঞ্জ, বন্ধুত্ব এবং প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরপুর এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য কবি নজরুল সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতি (কনকসাস)-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
যারা পাহাড়, ঝর্ণা, সমুদ্র এবং অ্যাডভেঞ্চার—সবকিছুর স্বাদ এক সফরেই নিতে চান, তাদের জন্য সীতাকুণ্ড নিঃসন্দেহে একটি আদর্শ গন্তব্য। এখানে চন্দ্রনাথ পাহাড়, সহস্রধারা ও সুপ্তধারা ঝর্ণা,ইকো পার্ক এবং গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত—সব মিলিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।