বঙ্গোপসাগরের গভীর জলে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে উঠে এসেছে দৃষ্টিনন্দন এক সামুদ্রিক মাছ। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন সমুদ্র থেকে ধরা পড়া মাছটির শরীরে রয়েছে উজ্জ্বল হলুদ-সোনালি রঙের দীর্ঘ একটি রেখা। স্থানীয়ভাবে মাছটি পরিচিত ‘হলুদ সোনালি বাটা’ নামে।
বুধবার সকালে মাছটি আলিপুর মৎস্য বন্দরে আনা হলে মুহূর্তেই সেটিকে ঘিরে ভিড় করেন জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় উৎসুক মানুষ। ব্যতিক্রমী রঙ ও আকৃতির মাছটি দেখে অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি তুলতে শুরু করেন।
জানা গেছে, সমুদ্রের তলদেশে বিচরণকারী এ মাছ থুতনির নিচে থাকা দুটি শুঁড়ের সাহায্যে বালি ও কাদা খুঁড়ে খাবার সংগ্রহ করে। এ প্রক্রিয়ায় সমুদ্রতলের পুষ্টি উপাদানের পুনঃচক্রায়নে ভূমিকা রাখে মাছটি। ফলে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষাতেও এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
চেয়ারম্যান রাজিব সরকার বলেন, হলুদ সোনালি বাটার শুধু পরিবেশগত গুরুত্বই নয়, অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি শুঁটকি শিল্পেও মাছটির ব্যবহার রয়েছে। পুষ্টিকর প্রোটিনের উৎস হিসেবেও এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ প্রজাতির মাছের বিষয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক অঞ্চলে এ মাছের উপস্থিতি রয়েছে। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মাছটির সংরক্ষণ এবং টেকসই আহরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
কুয়াকাটা উপকূলের জেলেদের জালে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে স্বল্পপরিচিত ও ব্যতিক্রমী সামুদ্রিক প্রাণী ধরা পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশিতে এখনো অনেক সামুদ্রিক প্রজাতি রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে মানুষের জানাশোনা সীমিত। জেলেদের জালে এ ধরনের মাছ উঠে আসা সেই সমৃদ্ধ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যেরই একটি চিত্র তুলে ধরে।