আফসানা মিম, ঢাকা
বাংলাদেশে বর্তমানে পাঁচটি আবহাওয়া রাডার স্টেশন চালু রয়েছে-ঢাকা, কক্সবাজার, খেপুপাড়া, মৌলভীবাজার ও রংপুর। এসব রাডার স্টেশন পরিচালনা করছে Bangladesh Meteorological Department (বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর)। দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, পূর্বাভাস ও দুর্যোগ সতর্কতা ব্যবস্থায় এসব রাডারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত খেপুপাড়া ডপলার রাডার স্টেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
পটুয়াখালী জেলার উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১০ একর জমির ওপর স্থাপিত এ আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রটি বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত। জাপান সরকারের আর্থিক সহায়তায় এবং Japan International Cooperation Agency (জাইকা)-এর সহযোগিতায় ২০০৮ সালে রাডারটি আধুনিক প্রযুক্তিতে পুনর্নির্মাণ ও চালু করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের আবহাওয়া পূর্বাভাস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা।
খেপুপাড়া রাডার স্টেশনটি S-band Doppler Radar প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং প্রায় ৪৩০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ পর্যন্ত আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহে সক্ষম। এই রাডারের মাধ্যমে মেঘের গতিবিধি, বৃষ্টিপাতের তীব্রতা, বাতাসের গতি এবং ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান ও গতিপথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। সংগৃহীত এসব তথ্য দ্রুত ঢাকার ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়, যা উপকূলীয় জনগণের জন্য সময়োপযোগী সতর্কবার্তা প্রচারে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় পর্যবেক্ষণে খেপুপাড়া রাডারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। উপকূলের নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে এটি ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তি সম্পর্কে দ্রুত ও তুলনামূলকভাবে নির্ভুল তথ্য দিতে সক্ষম, যা দুর্যোগকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে খেপুপাড়া রাডার স্টেশনের কার্যক্রম মাঝে মাঝে ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে উপকূলীয় জেলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো নির্ভরযোগ্য আবহাওয়া তথ্য না পেলে সাগরে অবস্থানরত নৌযান ও জেলেদের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
খেপুপাড়া ডপলার রাডার স্টেশন কেবল একটি প্রযুক্তিগত স্থাপনা নয়; এটি উপকূলীয় মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রাডারটির আধুনিকীকরণ, দ্রুত ত্রুটি নিরসন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে।