দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি মনে করে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কমে যাওয়া ক্রয়ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে এর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণকালের সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক পর্যালোচনা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এ মন্তব্য করা হয়। অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনসহ সংস্থাটির অন্যান্য গবেষক ও অর্থনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ইতোমধ্যে অনেক বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে। কারণ জ্বালানি খাতের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও সেবাখাতের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সিপিডির বিশ্লেষণে উঠে আসে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যয় বৃদ্ধি পেলে উৎপাদনশীল খাতগুলো প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বাড়তি ব্যয়ের কারণে সংকটে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদনের খরচ বেড়ে গেলে রপ্তানি খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই পথে এগিয়ে নিতে হলে শুধু রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি নয়, বরং ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে যেতে পারে। এতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
সিপিডির মতে, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি উত্তরণকাল অতিক্রম করছে। এ সময়ে নীতিনির্ধারকদের বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর সংস্কার উদ্যোগই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অন্যথায় মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সিপিডি।