মহিপুর প্রতিনিধি: আগামী ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে মাছ ধরায় ২২ দিনের অবরোধ। অবরোধের আগে হাতে থাকা অল্প সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মাছ আহরণের চেষ্টা করছেন মহিপুর মৎস্য বন্দরের জেলে ও ট্রলার মালিকরা। এ কারণে বর্তমানে মহিপুরের প্রায় সব ট্রলারই সাগরে রয়েছে।
সাধারণ সময়ে একটি মাছ ধরার ট্রিপ শেষ করতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগলেও অবরোধ ঘনিয়ে আসায় অনেক ট্রলার এখন ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছে। অবরোধ শুরুর আগে শেষ কয়েকটি ট্রিপ শেষ করে দ্রুত ঘাটে ফেরার চেষ্টা করছেন জেলেরা।
তবে সময় কমলেও ট্রলার পরিচালনার ব্যয় কমেনি। বরং জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রলার চালাতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। এর পাশাপাশি সাগরে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বরফ, খাবার, চাল-ডালসহ অন্যান্য রসদও কিনতে হচ্ছে ট্রলার মালিকদের।
সাগর থেকে আহরণ করা মাছের দামও নির্ভর করছে মাছের আকার ও মানের ওপর। বড় সাইজের মাছ পাওয়া গেলে তুলনামূলক ভালো দাম মিলছে। অন্যদিকে ছোট সাইজের মাছের বাজারে চাহিদা কম থাকায় সেগুলোর দামও তুলনামূলক কম পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে ৬৫ দিনের মাছ ধরার অবরোধ শেষে পরবর্তী ২২ দিনের অবরোধ পর্যন্ত বাঁশখালী, ভোলা, মৌডুবীসহ দূর-দূরান্তের বিভিন্ন এলাকার জেলেরা মহিপুর বন্দরে অবস্থান করে মাছ ধরা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। নতুন অবরোধ শুরু হলে এসব এলাকার জেলেরা ট্রলার নিয়ে নিজ নিজ ঘাটে ফিরে যাবেন।
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অবরোধের সময় ঘনিয়ে আসায় এখন মূল লক্ষ্য দ্রুত কয়েকটি ট্রিপ শেষ করে নিরাপদে ঘাটে ফেরা। তবে বাড়তি জ্বালানি, বরফ ও রসদের খরচের পাশাপাশি মাছের বাজারদর প্রত্যাশিত না হলে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
সব মিলিয়ে অবরোধের আগে শেষ সময়ের মাছ আহরণকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন মহিপুর মৎস্য বন্দরের জেলে, ট্রলার মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।