দেশের অন্যতম বিদ্যুৎ উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা। এখানেই অবস্থিত পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পটুয়াখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেও দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বিভিন্ন সময়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিশেষ করে আগামী জুলাই মাসে অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে উদ্বেগে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যা ও রাতের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে মোবাইল ফোনের আলো কিংবা চার্জার লাইটের সাহায্যে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজের শিক্ষার্থী মিশকাত বলেন, “প্রতিদিনই কোনো না কোনো সময়ে বিদ্যুৎ চলে যায়। রাতে পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ না থাকায় মনোযোগ নষ্ট হয়। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত প্রস্তুতি নিতে পারছি না।”
একই অভিযোগ করেন কলাপাড়া মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী মারিয়া ইসলাম। তিনি বলেন, “ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনলাইনভিত্তিক পড়াশোনা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকট আমাদের শিক্ষাজীবনের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। কলাপাড়া সদর রোডের ব্যবসায়ী ফোরকানুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানের পরিবেশ খারাপ হয়ে যায়। ফ্যান বন্ধ থাকে, ফ্রিজে রাখা পণ্যের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। ক্রেতার সংখ্যাও কমে যায়। ফলে প্রতিদিনই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, যে অঞ্চলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো অবস্থিত, সেই অঞ্চলের মানুষ যদি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি দ্রুত চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
এদিকে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুফল সবার আগে স্থানীয় জনগণের পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তারা দিনের পর দিন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা ভোগ করছেন। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কলাপাড়াবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে এবং জনদুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।