বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দাবি করেছে, গত কয়েক দিনে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে একাধিকবার লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা করেছে। এসব প্রচেষ্টা বিজিবি প্রতিহত করেছে বলে জানানো হয়েছে। (Reuters)
বিজিবির তথ্যমতে, ঝিনাইদহ, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অন্তত ১০টি অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা শনাক্ত করা হয়েছে। এক ঘটনায় বিএসএফ সদস্যরা একটি গেট খুলে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেয় এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহনকে ফিরে যেতে বাধ্য করে। (Reuters)
এদিকে ভারতের কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, সীমান্তে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পুশ-ইনের অভিযোগ তুলছে। বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে এ নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিষয়টি সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। (The Times of India)
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হলে তাকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত পাঠাতে হবে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নিয়ম উপেক্ষা করে কাউকে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে ঢাকার অবস্থান। (Reuters)
অন্যদিকে ভারত অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পূর্বে বাংলাদেশকে হাজারো সন্দেহভাজন বাংলাদেশির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। (Reuters)
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পুশ-ইন বিতর্ক দুই দেশের সম্পর্কের জন্য সংবেদনশীল ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে বেড়া নির্মাণ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং নাগরিক প্রত্যাবাসন নিয়ে চলমান মতপার্থক্যের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। (The Economic Times)
আগামী ৮–১১ জুন নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, বেড়া নির্মাণ, অবৈধ অভিবাসন এবং সাম্প্রতিক পুশ-ইন অভিযোগ আলোচনার এজেন্ডায় থাকতে পারে। (Reuters)
সূত্র: Reuters, The Times of India, The Daily Star, Economic Times।