আন্তর্জাতিক ডেস্ক | কালাপাড়া পোস্ট
বিশ্বজুড়ে আবারও শক্তিশালী এল নিনো (El Niño) ফিরে আসতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির আবহাওয়া বিষয়ক অঙ্গসংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে এল নিনো পরিস্থিতি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি এবং এটি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা ও খাদ্য সংকটের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। (Reuters)
WMO-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন-আগস্ট সময়কালে এল নিনো গঠনের সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ, আর নভেম্বর পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি। অধিকাংশ জলবায়ু মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এবারের এল নিনো অন্তত মাঝারি মাত্রার হবে, তবে তা শক্তিশালী রূপও নিতে পারে। (World Meteorological Organization)
WMO মহাসচিব সেলেস্টে সাউলো সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বকে সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর জন্য প্রস্তুত হতে হবে। তার মতে, এই জলবায়ু ঘটনা খরা ও অতিবৃষ্টির মাত্রা বাড়াবে এবং স্থলভাগ ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও তীব্র করবে। (1027wbow.com)
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধারা বদলে দেয়। এর ফলে কোথাও ভয়াবহ খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যা দেখা দিতে পারে। (World Meteorological Organization)
জাতিসংঘের আশঙ্কা, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবারের এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। ইতোমধ্যেই পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্প-পূর্ব যুগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এল নিনো যুক্ত হলে বিশ্ব আরও ভয়াবহ আবহাওয়া পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। (Reuters)
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্য আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে খাদ্যপণ্যের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। কিছু বিশ্লেষণে চাল, গম, ভুট্টা, কফি ও চিনি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করা হয়েছে। (Reuters)
জাতিসংঘ মহাসচিব António Guterres বলেছেন, এল নিনো একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা যে জলবায়ু সংকট আরও গভীর হচ্ছে। তিনি দেশগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। (Reuters)
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। অন্যথায় তাপপ্রবাহ, খাদ্য সংকট, পানির অভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিশ্বব্যাপী আরও বেড়ে যেতে পারে। (BSS)
তথ্যসূত্র: WMO El Niño Update | Reuters Report | UN Warning Coverage (BSS) | NOAA ENSO Forecast